কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে চার পরিবারকে একঘরে বা সমাজচ্যুত করার অভিযোগে উত্তর গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাদল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের প্রয়াত আবদুর রহমানের ছেলে মমিন আলী ও একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তিতে একাধিকবার গ্রাম্য সালিসও অনুষ্ঠিত হয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট উভয় পক্ষের জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে পুনরায় সালিসে বসার কথা ছিল। তবে এর আগেই গত ২ জুলাই মমিন আলী বাদী হয়ে আলমগীর হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। সালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতে মামলা করার অভিযোগে গত সোমবার সন্ধ্যায় মাইকিং করে মমিন আলীর পরিবারসহ মোট চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাজচ্যুতির ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলমগীর হোসেন তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সমাজচ্যুতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উভয় পক্ষকে থানায় তলব করেন।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে সমাজচ্যুতির বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।



















