আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৪%

ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে একসঙ্গে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:18:05 am, Tuesday, 4 August 2026
  • 34

ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে একসঙ্গে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জাপানের মুদ্রা ইয়েনের মান চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরল এক যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৩ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ইয়েনের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দুই দেশ যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। ট্রাম্প বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সহায়তা করা এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ইয়েনের শক্তিশালী হওয়ার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্র কেন জাপানের মুদ্রাকে সমর্থন দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ইয়েনের অবমূল্যায়নের কারণে জাপান সহায়তা চেয়েছিল এবং ওয়াশিংটন সবসময় টোকিওর পাশে রয়েছে।

এই ঘোষণার পরপরই বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ইয়েনের উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। এক পর্যায়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৫ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছায়, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে টানা দুই কার্যদিবসেও ইয়েনের দর মোট ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। শুধু ডলার নয়, ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতেও ইয়েনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের অবমূল্যায়ন জাপানের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। একই সঙ্গে এ পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জনপ্রিয়তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েন কেনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাবাজারে ইয়েনের অতিরিক্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে তারা প্রস্তুত। এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও শুক্রবারের যৌথ পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববার তিনি বলেন, বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও জাপানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিশ্বের তরুণদের স্বপ্নপূরণে রাশিয়াকে সহযোগী করার আহ্বান পুতিনের

ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে একসঙ্গে মাঠে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান

Update Time : 07:18:05 am, Tuesday, 4 August 2026

জাপানের মুদ্রা ইয়েনের মান চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরল এক যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৩ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ইয়েনের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দুই দেশ যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। ট্রাম্প বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সহায়তা করা এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ইয়েনের শক্তিশালী হওয়ার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করছে। যুক্তরাষ্ট্র কেন জাপানের মুদ্রাকে সমর্থন দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ইয়েনের অবমূল্যায়নের কারণে জাপান সহায়তা চেয়েছিল এবং ওয়াশিংটন সবসময় টোকিওর পাশে রয়েছে।

এই ঘোষণার পরপরই বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ইয়েনের উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। এক পর্যায়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৫ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছায়, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে টানা দুই কার্যদিবসেও ইয়েনের দর মোট ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। শুধু ডলার নয়, ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতেও ইয়েনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের অবমূল্যায়ন জাপানের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। একই সঙ্গে এ পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জনপ্রিয়তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েন কেনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাবাজারে ইয়েনের অতিরিক্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে তারা প্রস্তুত। এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও শুক্রবারের যৌথ পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোববার তিনি বলেন, বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও জাপানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।