আজ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
বৃষ্টি
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

জনকল্যাণমুখী উন্নয়নে সরকারের পথনকশা

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:24:59 am, Tuesday, 4 August 2026
  • 27

জনকল্যাণমুখী উন্নয়নে সরকারের পথনকশা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের অংশগ্রহণ নির্ধারণ করে শাসনব্যবস্থার বৈধতা। স্বত:স্ফূর্ত ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে শাসক বা সরকার নির্বাচন করে জনগণ। জনগণের মতামত ও ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে পথচলা প্রতিটি গণতান্ত্রিক সরকারের মূল দর্শন। প্রতিটি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনে প্রায় দু’দশক পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঘোষণা করে ১৮০ দিনের রোডম্যাপ।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দুর্বল অর্থনীতি ও ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে সরকারকে। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে গতি আনার মাধ্যমে জীবনযাত্রায় কষ্ট কমিয়ে অর্থনীতিতে সুবাতাস ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্ধারিত হয়েছিল সরকারের কর্মপরিকল্পনা।

এরই মধ্যে শুরু থেকেই আবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলাতেও বড় পরীক্ষা দিতে হয়েছে সরকারকে। সরকারের কার্যকর নানা উদ্যোগে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারে আপাতত দৃষ্টিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশ ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনের কাণ্ডারি তারেক রহমান এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জনগণের নিরঙ্কুশ রায়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে।

সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর প্রথম ৬ মাসের পথচলাও ছিল কন্টকাকীর্ণ। কিন্তু হাল ছাড়েননি। একটি জাতির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জবাবদিহি ও সামাজিক ন্যায়বিচার একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করছেন। একটি নতুন ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারসাম্য ও সহনশীলতার শূন্যতা দূর করতে চেয়েছেন। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঠেকাতে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

দমন করতে চাননি বিরোধী কণ্ঠ। সংযম, ধৈর্য্য, বিনয়, পরিমিতিবোধ ও দূরদর্শীতার মাধ্যমে উচ্চ জনপ্রত্যাশা মাথায় রেখেই সরকার পরিচালনা করছেন। সততা, একাগ্রতা ও কর্মনিষ্ঠার উজ্জ্বল আবহে জনগণকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন। সরকারের ছয় মাসের অগ্রযাত্রা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সময়টি সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নে যথেষ্ট নয়।

তবে এ নিয়ে আলাপ- আলোচনা বা চূলচেরা বিশ্লেষণ থেমে নেই। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বহুবিধ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণের আস্থা অর্জনে জনকল্যাণমুখী নানা পদক্ষেপ সাধারণের আশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ১৮০ দিনের বহুমাত্রিক পদক্ষেপ সরকারের ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করেছে সরকার।

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানে কৃষকরা পেয়েছেন ‘কৃষক কার্ড’। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর। চলতি আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ইস্যু করা হবে প্রবাসী ডেবিট কার্ড। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে সব নাগরিককে আনা হবে ই-হেলথ কার্ডের আওতায়। এসবের মাধ্যমে একজন নাগরিকের ডিজিটাল আইডেন্টিকে সমন্বিত এক ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করতে চায়।

নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। জনকল্যাণমুখী এসব পদক্ষেপ সরকারের বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিলবোর্ডে চটকদার বিজ্ঞাপনী ফর্মুলায় সরকারের আত্মপ্রচারের চিরায়ত প্রথা থেকে যেন বেরিয়ে এসেছে বিএনপি সরকার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতোই তাঁর সন্তান তারেক রহমান কোদাল হাতে নেমেছেন।

কৃষিতে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজীবিত করতে দিনাজপুরের কাহারোল থেকে দেশের ৫৩টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও মানসম্মত পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রমও হাতে নিয়েছেন।

সরকারি প্রটোকল কমিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাসা থেকে সচিবালয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত অফিস করছেন। কখনও কখনও নিজেই গাড়ি হাঁকিয়ে ঢাকার জীবনচিত্র অবলোকন করছেন, জনভোগান্তি কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর দিয়েছেন। এবারই প্রথম কোন নির্বাচিত সরকারের সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করেনি।

নেয়নি প্লট সুবিধাও। চলমান রয়েছে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও। আইটি খাতকে রপ্তানির দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ ও ফ্রিল্যান্সিং সুবিধা চালু করেছে। এটি দেশের বেকার তরুণদের উৎসাহিত করেছে দারুণভাবে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’ গ্রহণ করেছে।

দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের ইতিমধ্যেই পাঁচটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সোলার প্রকল্পের জন্য জমি, ঋণ এবং ট্যাক্স সুবিধা দিয়ে প্রাইভেট সেক্টরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতোসব ইতিবাচক অর্জনের মধ্যেও দ্রব্যমূল্য ছিল অন্যতম বড় মাথাব্যাথার কারণ।

মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সীমিত আয়ের মানুষকে স্বস্তিতে রাখতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে এমন পরামর্শ বিশ্লেষকদের। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখন অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। তারেক রহমানের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার জোর প্রয়াস নিয়েছে।

বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় তাঁর সরকার। এজন্য প্রশাসনিক জটিলতা ও বৈদেশিক বিনিয়োগে ধীরগতির বিষয়টি মাথায় রেখে বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে উঠতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্প খাত, রপ্তানি খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশি উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকারও সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাঁর পাশে থাকবে বলে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সম্প্রতি বাংলাদেশে সফরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর এক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বিদেশি ঋণ ও অনুদানের পরনির্ভরশীলতা নীতি ঝুঁকি তৈরি করে অর্থনীতিতে।

ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক মডেল প্রশ্নবিদ্ধ করে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাকে। টেকসই রূপকল্পে অগ্রসর হতে প্রয়োজন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোরও কোন বিকল্প নেই। সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে-বেকারত্ব দূরীকরণে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরিতে কাঠামোগত সংস্কার ও সমন্বয়হীনতার পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক প্রকল্প পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে প্রকল্পের লাভ-লোকসান ও যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারে। সরকারের রূপকল্পে এসব নীতিগত পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারি ব্যয় বরাদ্দে যা নিয়ে আসবে স্বচ্ছতা। নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচি মূলত নির্বাচনি ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রস্তুত করা হচ্ছে একটি কৌশলপত্র। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই এই কৌশলপত্র প্রকাশের ঘোষণা আগেই দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলোও নির্বাচনি ইশতেহার ও আসন্ন কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে জোর দেওয়া হয়েছে। জনবান্ধব শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা-এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারপ্রধান সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখিয়েছেন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের ভাষ্য হচ্ছে-আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও তিনি পেয়েছেন বড় সাফল্য। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করে পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করছেন। বিশ্ব রাজনীতিতেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে সরকার কৌশলী ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সীমান্ত রক্ষায় নিজেদের ইস্পাত কঠিন মানসিকতাকে জানান দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্ত শার্দুলদের এমন চেহারাতেই দেখতে চেয়েছিল দেশের মানুষ। বিজিবির অসীম সাহসিকতা ও দৃঢ়তা উজ্জ্বল করেছে সরকারের ভাবমূর্তি। বিজিবি এখন বিএসএফ’র চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। মহাপরিচালকের দৃঢ় ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিজিবির অকুতোভয় সদস্যরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয়দের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিচ্ছে। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যকার ঐক্য, দেশপ্রেম ও সাহসিকতা সীমান্তকে করেছে সুরক্ষিত।

শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হচ্ছে সীমান্ত হত্যাও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি। ’ কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে নিজের কর্মগুণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে একটি আদর্শিক চরিত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

তাঁর প্রতিটি বক্তব্য ও কার্যক্রম মোটিভেশনাল। নাগরিকদের মনন, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতাকে প্রকারান্তরে তিনি জাগ্রত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছেন। তবুও সরকারের প্রথম ৬ মাসের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক বলেই প্রতীয়মান হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। দেশপ্রেম, উদ্যম ও দায়বদ্ধতার যুগপৎ সম্মিলনের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। সরকারের ওপর বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনসাধারণের আস্থা-বিশ্বাস অটুট রয়েছে।

তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথনকশা প্রস্তুত করেছে। সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় এটি সাধারণ মানুষ ভালোভাবেই জানে। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডে সঠিক উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিকতা দেখতে চেয়েছিল তাঁরা। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একের the এক কর্মোদ্যোগ জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।

তাঁর আচরণে মানুষ নতুন কিছুই দেখতে পাচ্ছে। মানুষ এই সরকারকে সময় দিতে চায়। তারা বিশ্বাস করছেন তারেক রহমান পারবেন তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছতে। তিনি সফল হলে কেবল জনগণের প্রত্যাশাই পূর্ণ হবে না, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। পরমতসহিষ্ণুতা এবং দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন নীতি অনুসronymের মাধ্যমে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তাঁর পক্ষেই তৈরি করা সম্ভব।

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফেসবুক ও টেলিগ্রামে প্রলোভন: যেভাবে ছড়াচ্ছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য সাম্রাজ্য

জনকল্যাণমুখী উন্নয়নে সরকারের পথনকশা

Update Time : 05:24:59 am, Tuesday, 4 August 2026

গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের অংশগ্রহণ নির্ধারণ করে শাসনব্যবস্থার বৈধতা। স্বত:স্ফূর্ত ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে শাসক বা সরকার নির্বাচন করে জনগণ। জনগণের মতামত ও ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে পথচলা প্রতিটি গণতান্ত্রিক সরকারের মূল দর্শন। প্রতিটি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনে প্রায় দু’দশক পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঘোষণা করে ১৮০ দিনের রোডম্যাপ।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দুর্বল অর্থনীতি ও ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে সরকারকে। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে গতি আনার মাধ্যমে জীবনযাত্রায় কষ্ট কমিয়ে অর্থনীতিতে সুবাতাস ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্ধারিত হয়েছিল সরকারের কর্মপরিকল্পনা।

এরই মধ্যে শুরু থেকেই আবার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলাতেও বড় পরীক্ষা দিতে হয়েছে সরকারকে। সরকারের কার্যকর নানা উদ্যোগে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারে আপাতত দৃষ্টিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশ ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনের কাণ্ডারি তারেক রহমান এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জনগণের নিরঙ্কুশ রায়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে।

সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর প্রথম ৬ মাসের পথচলাও ছিল কন্টকাকীর্ণ। কিন্তু হাল ছাড়েননি। একটি জাতির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জবাবদিহি ও সামাজিক ন্যায়বিচার একসূত্রে গাঁথার চেষ্টা করছেন। একটি নতুন ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারসাম্য ও সহনশীলতার শূন্যতা দূর করতে চেয়েছেন। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঠেকাতে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

দমন করতে চাননি বিরোধী কণ্ঠ। সংযম, ধৈর্য্য, বিনয়, পরিমিতিবোধ ও দূরদর্শীতার মাধ্যমে উচ্চ জনপ্রত্যাশা মাথায় রেখেই সরকার পরিচালনা করছেন। সততা, একাগ্রতা ও কর্মনিষ্ঠার উজ্জ্বল আবহে জনগণকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন। সরকারের ছয় মাসের অগ্রযাত্রা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সময়টি সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নে যথেষ্ট নয়।

তবে এ নিয়ে আলাপ- আলোচনা বা চূলচেরা বিশ্লেষণ থেমে নেই। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বহুবিধ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণের আস্থা অর্জনে জনকল্যাণমুখী নানা পদক্ষেপ সাধারণের আশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ১৮০ দিনের বহুমাত্রিক পদক্ষেপ সরকারের ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করেছে সরকার।

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানে কৃষকরা পেয়েছেন ‘কৃষক কার্ড’। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর। চলতি আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ইস্যু করা হবে প্রবাসী ডেবিট কার্ড। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে সব নাগরিককে আনা হবে ই-হেলথ কার্ডের আওতায়। এসবের মাধ্যমে একজন নাগরিকের ডিজিটাল আইডেন্টিকে সমন্বিত এক ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করতে চায়।

নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। জনকল্যাণমুখী এসব পদক্ষেপ সরকারের বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিলবোর্ডে চটকদার বিজ্ঞাপনী ফর্মুলায় সরকারের আত্মপ্রচারের চিরায়ত প্রথা থেকে যেন বেরিয়ে এসেছে বিএনপি সরকার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতোই তাঁর সন্তান তারেক রহমান কোদাল হাতে নেমেছেন।

কৃষিতে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজীবিত করতে দিনাজপুরের কাহারোল থেকে দেশের ৫৩টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও মানসম্মত পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রমও হাতে নিয়েছেন।

সরকারি প্রটোকল কমিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাসা থেকে সচিবালয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত অফিস করছেন। কখনও কখনও নিজেই গাড়ি হাঁকিয়ে ঢাকার জীবনচিত্র অবলোকন করছেন, জনভোগান্তি কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর দিয়েছেন। এবারই প্রথম কোন নির্বাচিত সরকারের সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করেনি।

নেয়নি প্লট সুবিধাও। চলমান রয়েছে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও। আইটি খাতকে রপ্তানির দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ ও ফ্রিল্যান্সিং সুবিধা চালু করেছে। এটি দেশের বেকার তরুণদের উৎসাহিত করেছে দারুণভাবে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’ গ্রহণ করেছে।

দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের ইতিমধ্যেই পাঁচটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সোলার প্রকল্পের জন্য জমি, ঋণ এবং ট্যাক্স সুবিধা দিয়ে প্রাইভেট সেক্টরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতোসব ইতিবাচক অর্জনের মধ্যেও দ্রব্যমূল্য ছিল অন্যতম বড় মাথাব্যাথার কারণ।

মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সীমিত আয়ের মানুষকে স্বস্তিতে রাখতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে এমন পরামর্শ বিশ্লেষকদের। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখন অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। তারেক রহমানের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার জোর প্রয়াস নিয়েছে।

বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় তাঁর সরকার। এজন্য প্রশাসনিক জটিলতা ও বৈদেশিক বিনিয়োগে ধীরগতির বিষয়টি মাথায় রেখে বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে উঠতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্প খাত, রপ্তানি খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশি উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকারও সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাঁর পাশে থাকবে বলে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সম্প্রতি বাংলাদেশে সফরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর এক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বিদেশি ঋণ ও অনুদানের পরনির্ভরশীলতা নীতি ঝুঁকি তৈরি করে অর্থনীতিতে।

ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক মডেল প্রশ্নবিদ্ধ করে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাকে। টেকসই রূপকল্পে অগ্রসর হতে প্রয়োজন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোরও কোন বিকল্প নেই। সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে-বেকারত্ব দূরীকরণে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরিতে কাঠামোগত সংস্কার ও সমন্বয়হীনতার পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক প্রকল্প পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে প্রকল্পের লাভ-লোকসান ও যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারে। সরকারের রূপকল্পে এসব নীতিগত পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়েছে। সরকারি ব্যয় বরাদ্দে যা নিয়ে আসবে স্বচ্ছতা। নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচি মূলত নির্বাচনি ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রস্তুত করা হচ্ছে একটি কৌশলপত্র। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই এই কৌশলপত্র প্রকাশের ঘোষণা আগেই দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলোও নির্বাচনি ইশতেহার ও আসন্ন কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে জোর দেওয়া হয়েছে। জনবান্ধব শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা-এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারপ্রধান সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখিয়েছেন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের ভাষ্য হচ্ছে-আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও তিনি পেয়েছেন বড় সাফল্য। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করে পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করছেন। বিশ্ব রাজনীতিতেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে সরকার কৌশলী ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সীমান্ত রক্ষায় নিজেদের ইস্পাত কঠিন মানসিকতাকে জানান দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্ত শার্দুলদের এমন চেহারাতেই দেখতে চেয়েছিল দেশের মানুষ। বিজিবির অসীম সাহসিকতা ও দৃঢ়তা উজ্জ্বল করেছে সরকারের ভাবমূর্তি। বিজিবি এখন বিএসএফ’র চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। মহাপরিচালকের দৃঢ় ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিজিবির অকুতোভয় সদস্যরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয়দের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিচ্ছে। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যকার ঐক্য, দেশপ্রেম ও সাহসিকতা সীমান্তকে করেছে সুরক্ষিত।

শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হচ্ছে সীমান্ত হত্যাও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি। ’ কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে নিজের কর্মগুণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে একটি আদর্শিক চরিত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

তাঁর প্রতিটি বক্তব্য ও কার্যক্রম মোটিভেশনাল। নাগরিকদের মনন, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতাকে প্রকারান্তরে তিনি জাগ্রত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছেন। তবুও সরকারের প্রথম ৬ মাসের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক বলেই প্রতীয়মান হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। দেশপ্রেম, উদ্যম ও দায়বদ্ধতার যুগপৎ সম্মিলনের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। সরকারের ওপর বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনসাধারণের আস্থা-বিশ্বাস অটুট রয়েছে।

তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথনকশা প্রস্তুত করেছে। সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় এটি সাধারণ মানুষ ভালোভাবেই জানে। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডে সঠিক উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিকতা দেখতে চেয়েছিল তাঁরা। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একের the এক কর্মোদ্যোগ জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।

তাঁর আচরণে মানুষ নতুন কিছুই দেখতে পাচ্ছে। মানুষ এই সরকারকে সময় দিতে চায়। তারা বিশ্বাস করছেন তারেক রহমান পারবেন তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছতে। তিনি সফল হলে কেবল জনগণের প্রত্যাশাই পূর্ণ হবে না, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। পরমতসহিষ্ণুতা এবং দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন নীতি অনুসronymের মাধ্যমে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তাঁর পক্ষেই তৈরি করা সম্ভব।

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক