আজ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

অনলাইন জুয়ায় মাসে ২০০ কোটি পাচার

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:06:42 am, Monday, 3 August 2026
  • 27

অনলাইন জুয়ায় মাসে ২০০ কোটি পাচার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০-২৫০ কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি। গ্রেপ্তার বাংলাদেশির নাম ঝর্ণা চাকমা জিয়ানা (২৭) এবং চীনা নাগরিকরা হলেন- লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি অ্যাক্টিভ সিমকার্ড এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে সেখান থেকে ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ উদ্ধার করা হয়। ডিবিপ্রধান বলেন, বাংলাদেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ঝর্নার ভাড়া বাসা ব্যবহার করে জুয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল চক্রটি। ঝর্ণা নামের ওই নারী পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের ভাড়া দেন। চীনা নাগরিকরা সেখানে অবস্থান করে উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছিল। চক্রটি সাধারণ মানুষের মোবাইলে বিভিন্ন লোভনীয় মেসেজ পাঠাত। মেসেজে নতুন অফার, চাকরির সুযোগ কিংবা বাড়তি আয়ের লিংক দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো। ভুক্তভোগীরা ওই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে যেতেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, আইনি নজরদারি এড়াতে চক্রটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করত। তারা একটি মোবাইলের সঙ্গে বাহ্যিক একাধিক স্লট যুক্ত করে একসঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনা করত। ফলে ভুক্তভোগীরা টাকা খুইয়ে অভিযোগ করলেও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হতো না। চক্রটি প্রতি মাসে একটা মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে জুয়া ও অবৈধভাবে ইনকাম করে পাচার করে নিয়ে যেত।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যশোর সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

অনলাইন জুয়ায় মাসে ২০০ কোটি পাচার

Update Time : 02:06:42 am, Monday, 3 August 2026

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০-২৫০ কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি। গ্রেপ্তার বাংলাদেশির নাম ঝর্ণা চাকমা জিয়ানা (২৭) এবং চীনা নাগরিকরা হলেন- লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি অ্যাক্টিভ সিমকার্ড এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে সেখান থেকে ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ উদ্ধার করা হয়। ডিবিপ্রধান বলেন, বাংলাদেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ঝর্নার ভাড়া বাসা ব্যবহার করে জুয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল চক্রটি। ঝর্ণা নামের ওই নারী পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের ভাড়া দেন। চীনা নাগরিকরা সেখানে অবস্থান করে উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছিল। চক্রটি সাধারণ মানুষের মোবাইলে বিভিন্ন লোভনীয় মেসেজ পাঠাত। মেসেজে নতুন অফার, চাকরির সুযোগ কিংবা বাড়তি আয়ের লিংক দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো। ভুক্তভোগীরা ওই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে যেতেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, আইনি নজরদারি এড়াতে চক্রটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করত। তারা একটি মোবাইলের সঙ্গে বাহ্যিক একাধিক স্লট যুক্ত করে একসঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনা করত। ফলে ভুক্তভোগীরা টাকা খুইয়ে অভিযোগ করলেও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হতো না। চক্রটি প্রতি মাসে একটা মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে জুয়া ও অবৈধভাবে ইনকাম করে পাচার করে নিয়ে যেত।