জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পার হলেও গড়ে ওঠেনি আধুনিক কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা ডাম্পিং স্টেশন। এর ফলে পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা সরাসরি মহাসড়কের পাশেই খোলা আকাশের নিচে ফেলা হচ্ছে। ফলস্বরূপ, মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও পথচারী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার পাঁচশিরা বাজার ও সড়কাইল গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া ব্যস্ত মহাসড়কের কোল ঘেঁষে প্রতিদিন পৌরসভার বর্জ্য স্তূপ করে রাখা হয়। কোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়ায় খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলায় প্রতিনিয়ত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পচে যাওয়া ময়লা থেকে উৎপন্ন গ্যাস ও বর্জ্যের কারণে আশেপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই পরিবেশ দূষণের ফলে মশা, মাছি ও বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। প্রতিদিন মহাসড়ক দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও মানুষ যাতায়াত করেন। ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীদের নাকে রুমাল বা হাত চেপে অত্যন্ত কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জনদুর্ভোগ নিরসনে বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হলেও স্থায়ী বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সড়কাইল গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক মো. বুদা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাড়ির পাশেই ময়লার ভাগাড় বানিয়ে রাখা হয়েছে। সারাদিন ময়লার যে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়, তাতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা তো বটেই, বাড়িতে টেকাও দায় হয়ে পড়েছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও নিস্তার পাওয়া যায় না। নিঃশ্বাস বন্ধ করে আমাদের চলতে হয়। একই এলাকার অটোরিকশাচালক আব্দুল বলেন, যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে একাধিকবার আসা-যাওয়া করতে হয়। এখানে ময়লা ফেলার কারণে চারপাশের পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই আসা-যওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধে আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। বাধ্য হয়ে নাক চেপে ধরে চলাচল করতে হয়। কেবল পরিবহন শ্রমিক বা পথচারীই নন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। শাহীন ক্যাডেট স্কুলের এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে পাঁচশিরা স্কুলে আসা-যাওয়া করতে আমার খুব কষ্ট হয়। রাস্তার ধারে খোলা ময়লার স্তূপ থেকে যে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়ায়, তাতে নিঃশ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা হয়। সচেতন মহলের মতে, পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডাম্পিং স্টেশন না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন অতি দ্রুত জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মহাসড়ক সংলগ্ন এই ময়লার ভাগাড় অপসারণ করবে এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখায় পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। এর প্রভাবে এলাকার বাতাসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানি ও বায়ুবাহিত রোগের ঝুঁকি দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় দ্রুত ময়লার ভাগাড় অন্যত্র অপসারণ করা জরুরি। পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মাহবুব জানান, পৌরসভার নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সাময়িকভাবে খাসজমিতে বর্জ্য রাখা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল এবং এটি সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। খুব শীঘ্রই উপযুক্ত ও নির্ধারিত জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট ও ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
শিরোনাম :
পৌরবর্জ্যে বিপন্ন স্বাস্থ্য-পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
- Update Time : 03:36:50 am, Sunday, 2 August 2026
- 30
Tag :
Popular Post




















